এই পাঁচটি খাবার খেলে ভিটামিন ডি নষ্ট হয়ে যাবে Eating These Five Food Will Destroy Vitamin D
আপনি কি জানেন, প্রতিদিন আমরা এমন কিছু খাবার খাই, যেগুলি আমাদের দেহে ভিটামিন ডি এর কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়? অনেক সময় দেখা যায় যে, পর্যাপ্ত রোদ ও ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার খাওয়ার পরও দেহে ভিটামিন ডি এর অভাব হচ্ছে? এর কারণ কি? এই প্রতিবেদনে আমরা জানবো, ভিটামিন ডি নষ্ট করে এমন পাঁচটি খাবার নিয়ে।
ভিটামিন ডি কেন এত জরুরি? Why is vitamin D so important?
ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ আমাদের দেহে অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয়। কিন্তু দেহের কাজ স্বাভাবিক রাখার জন্য এই উপাদানগুলি অপরিহার্য। এদের মধ্যে ভিটামিন ডি আমাদের হাড় কে শক্তিশালী করতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন ডি কে সানশাইন ভিটামিন বলা হয়, কারণ সূর্যের আলোয় আমাদের ত্বকে ভিটামিন ডি সংশ্লেষিত হয়। এছাড়া খাদ্য থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। ভিটামিন ডি একটি হরমোনও বটে। হরমোন আমাদের দেহের কোষ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। ভিটামিন ডি আমাদের অন্ত্রে ক্যালসিয়ামের শোষণ বৃদ্ধি করে, ফলে হাড় ও দাঁত মজবুত হয়। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ডিপ্রেশন রোধ করতে, বয়স্ক ব্যক্তিদের হাড়ের ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে এই ভিটামিন। শিশুদের বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ভিটামিন ডি।
খাবার কি সত্যিই ভিটামিন ডি নষ্ট করতে পারে? Can food really destroy vitamin D?
এক কথায় উত্তর দিলে বলতে হবে না, খাবার সরাসরি ভিটামিন ডি নষ্ট করতে পারেনা। তবে কিছু খাবার ও পানীয় আছে যা ভিটামিন ডি এর কার্যকারিতা ও শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া কিছু খাবার ভিটামিন ডি কে শরীর থেকে দ্রুত বাইরে বের করে দেয়। কিভাবে ও কোন খাবার ভিটামিন ডি এর উপর প্রভাব ফেলে সেগুলি নিয়ে আলোচনা করা হল।
অ্যালকোহল: Alcohol:
নিয়মিত অ্যালকোহল পান করলে দেহে ভিটামিন ডি এর অভাব দেখা যায়। অতিরিক্ত অ্যালকোহল ভিটামিন ডি শোষণে বাধা দেয়। অ্যালকোহল লিভার ও কিডনির কাজে বাধা দেয় ফলে দেহে ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত লক্ষণ দেখা দেয়। ভিটামিন ডি কে সক্রিয় করে আমাদের লিভার, তাই লিভারের ক্ষতি হলে দেহে ভিটামিন ডি এর অভাব দেখা দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে অ্যালকোহল সেবন করলে অন্ত্রের ভিতরে স্তরের ক্ষতি হতে পারে, ফলে ভিটামিন ডি সহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের শোষণ কমে যায়। একারণে যারা নিয়মিত অ্যালকোহল পান করেন তাদের অবশ্যই ভিটামিন ডি এর মাত্রা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
প্রক্রিয়াজাত খাদ্য: Processed food:
ভিটামিন ডি ফ্যাটের দ্রবীভূত ভিটামিন, অর্থাৎ উচ্চ মানের ফ্যাটে ভিটামিন ডি সঞ্চিত থাকে। কিন্তু প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন বার্গার, পিৎজা, চিপস, ফাস্টফুড ইত্যাদির মধ্যে নিম্নমানের ট্রান্সফ্যাট থাকে। এগুলি ভিটামিন ডি এর শোষণ কমায়, শরীরে ইনফ্লামেশন বাড়ায়। মোটা মানুষদের মধ্যে ভিটামিন ডি এর অভাব হওয়ার এটাই বড় কারণ। এছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাবারে উচ্চ মাত্রায় ফসফেট থাকে, যা ক্যালসিয়ামের বিপাকে বাধা দিতে পারে। যেহেতু ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি একসাথে কাজ করে, তাই ক্যালসিয়াম বিপাকে সমস্যা হলে ভিটামিন ডি এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাবারের থাকা প্রিজারভেটিভ কিডনি ও লিভারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, ফলে ভিটামিন ডি সক্রিয় হতে বাধা পায়।
অতিরিক্ত ফাইবার: Extra fiber:
ফাইবার যুক্ত খাদ্য যেমন শিম, মসুর, দানা শস্য, ফল, সবজি ইত্যাদি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। ফাইবার হজমে সাহায্য করে ও পেট ভরা রাখে। কিন্তু অতিরিক্ত ফাইবার-যুক্ত খাদ্য গ্রহণ করলে বা অতিরিক্ত কাঁচা শাক-সবজি খেলে ফ্যাটে দ্রবীভূত ভিটামিন যেমন এ,ডি,ই, কে ইত্যাদির শোষণ কমে যায়। বিশেষ করে যারা ডায়েটিং করেন, শুধু স্যালাড খান, ফ্যাট একেবারে বাদ দেন, তাদের মধ্যে ভিটামিন ডি এর অভাব বেশি দেখা যায়। একারণে ফাইবার যুক্ত খাদ্যের সাথে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট জাতীয় খাদ্যও গ্রহণ করা উচিত। এর ফলে ভিটামিনের শোষণ স্বাভাবিক থাকে। বিভিন্ন প্রকার খাদ্য উপাদানের মধ্যে ব্যালেন্স রাখাটাই স্বাস্থ্যের আসল চাবিকাঠি।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন: Excess caffeine:
ক্যাফেইন সাধারণত চা এবং কফি তে পাওয়া যায়। কিন্তু ক্যাফিন ভিটামিন ডি এর শোষণে বাধা দেয়। তবে পরিমিত পরিমাণ ক্যাফেইন গ্রহণ করা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু বেশি পরিমাণ কফি বা চা পান করলে ভিটামিন ডি এর শোষণ ব্যাহত হতে পারে। ক্যাফেইন অন্ত্রে ক্যালসিয়ামের শোষণ কমিয়ে দিতে পারে, ফলে হাড়ের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। তাই নিয়মিত বেশি পরিমাণ চা বা কফি পান করা থেকে বিরত হতে হবে। বিশেষ করে বয়স্ক মহিলা ও পুরুষদের এবং যারা ভিটামিন ডি ট্যাবলেট খান তাদের এবিষয়ে সচেতন হতে হবে।
উচ্চ অক্সালেটযুক্ত খাদ্য:
পালং শাক, বিট শাক ইত্যাদির মত উচ্চ অক্সালেটযুক্ত খাবার অন্ত্রে ক্যালসিয়ামের শোষণে বাধা দিতে পারে। যেহেতু ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি একসাথে কাজ করে, তাই ক্যালসিয়ামের অভাব হলে ভিটামিন ডি এর কাজও প্রভাবিত হয়। তবে যেহেতু এই শাকগুলি পুষ্টি উপাদানে ভরপুর, তাই সম্পূর্ণরূপে এই শাকগুলি এড়িয়ে চলা উচিত নয়। এর পরিবর্তে ভিটামিন ডি বা ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের সাথে এই সব উচ্চ অক্সালেটযুক্ত খাদ্য না খাওয়া ভালো। যেমন দুধের মত ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের সাথে উচ্চ অক্সালেটযুক্ত শাক সবজি খাওয়া উচিত নয়। অন্য খাদ্যের সাথে অবশ্যই এই ধরণের শাক সবজি খাওয়া যেতে পারে।
ভিটামিন ডি এর মাত্রা ঠিক রাখতে কী খাবেন? What to eat to maintain vitamin D levels?
আমাদের ত্বক সূর্যালোকের সাহায্যে ভিটামিন ডি উৎপাদন করতে পারে, তাই সকাল বেলা কম করে 30 মিনিট সূর্যালোকে থাকা প্রয়োজন। এই সময় ত্বকে সরাসরি রোদ লাগালে সবচেয়ে ভালো ভিটামিন ডি উৎপাদিত হয়। হাত, পা, পিঠ ইত্যাদি উন্মুক্ত রেখে রোদ পোহানো সবচেয়ে বেশি কার্যকর। এছাড়া ফ্যাট জাতীয় খাদ্য যেমন ডিমের কুসুম, সামুদ্রিক মাছ, দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য, ভালো ফ্যাট যেমন সরিষার তেল, অলিভ অয়েল ইত্যাদি থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
আজকের আলোচনা থেকে একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবেন “খাবারই ওষুধ আবার খাবারই রোগ” শুধুমাত্র ভিটামিন ডি ট্যাবলেট খেয়ে সমস্যা মিটবে না, সঠিক খাবার আর লাইফ স্টাইল দরকার।
তথ্যসূত্র:
Harvard Health, Varywell Health, National Library of Medicine, e.t.c.
