আমাদের শরীরের কাজ স্বাভাবিক রাখতে থাইরয়েড গ্রন্থির ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন বা T4 হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, হার্টবিট এবং মানসিক অবস্থার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তাই রক্তে T4 হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক আছে কিনা তা জানা অত্যন্ত জরুরি। এই কারণেই T4 টেস্ট করার প্রয়োজন পড়ে।
টি4 টেস্ট: T4 test:
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হরমোন থাইরক্সিন বা T4 দুটি রূপে আমাদের দেহে অবস্থান করে। বেশিরভাগ থাইরক্সিন হরমোন প্রোটিন জাতীয় পদার্থের সাথে আবদ্ধ অবস্থায় থাকে এবং কিছু পরিমাণ থাইরক্সিন মুক্ত অবস্থায় থাকে।
যেহেতু শরীরে থাইরক্সিন হরমোন, দুটি রূপে অবস্থান করে, তাই থাইরক্সিনের পরিমাণ পরীক্ষা করার জন্য আলাদা আলাদা ভাবে মোট থাইরক্সিন ও মুক্ত বা ফ্রি থাইরক্সিন পরিমাপ করা হয়। টোটাল T4 টেস্ট করার সময় ফ্রি T4 এবং প্রোটিনে আবদ্ধ T4, দুই-ই পরিমাপ করা হয় এবং ফ্রি T4 টেস্ট করার সময় কেবলমাত্র ফ্রি T4 অর্থাৎ প্রোটিনের সাথে যুক্ত নয় এমন থাইরক্সিন পরিমাপ করা হয়। টোটাল T4 অপেক্ষা ফ্রি T4 বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সিরাম ক্যালসিয়াম টেস্ট: Serum Calcium Test:
দেহে উপস্থিত খনিজ উপাদান গুলির মধ্যে ক্যালসিয়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত রুটিন হেলথ চেকআপ করার সময় এই টেস্ট করা হয়। আমাদের দেহের কোন অঙ্গ অসুস্থ হলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সিরাম ক্যালসিয়ামের মাত্রার পরিবর্তন ঘটে। একারণে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করতে সিরাম ক্যালসিয়াম টেস্ট করা হয়।
আমাদের দেহে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে। ক্যালসিয়াম আমাদের হাড় ও দাঁতের প্রধান উপাদান। ক্যালসিয়াম পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে, রক্তনালীর গহবরকে প্রয়োজনমতো ছোট বা বড় করে। এছাড়া ক্যালসিয়াম স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে সংবাদ আদান-প্রদানে ভূমিকা নেয়, হরমোন উৎপাদনে সাহায্য করে। কোন স্থান কেটে গেলে, রক্তপাত হলে, রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপাত বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় ক্যালসিয়াম।