Healthy Lifestyle স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাখাদ্য ও পানীয় Food & Drinks

কি কি লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডায়েট চার্ট পরিবর্তন করতে হবে?  How & When To Change Your Diet Plan?

ফাস্টফুড খেতে আমাদের সকলেরই বেশ ভালো লাগে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সুষম পুষ্টিকর খাদ্য না খাওয়ার জন্য আমাদের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। কী কী লক্ষণ দেখে বুঝবেন যে আপনার খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন করা প্রয়োজন, সেটা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

দীর্ঘদিন ধরে পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা, বদহজম ইত্যাদি সমস্যা, সঠিক খাদ্য না খাওয়ার কারণে হতে পারে। অতিরিক্ত মাংস, তেল ও চর্বি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করার ফলে এটা হতে পারে। আবার যদি দেখা যায় যে, দুগ্ধজাত খাদ্য গ্রহণ করলে গ্যাস অম্বল হচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার পৌষ্টিকতন্ত্র ল্যাকটোজ জাতীয় খাদ্যের প্রতি অ-সহিষ্ণু। এক্ষেত্রে খাদ্য তালিকা থেকে দুগ্ধজাত পদার্থ বাদ দিতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও মলত্যাগ সংক্রান্ত সমস্যার প্রধান কারণ ফাইবার যুক্ত খাদ্য কম খাওয়া। খাদ্যে উপস্থিত ফাইবার আমাদের পৌষ্টিকতন্ত্রের কাজ স্বাভাবিক রাখে ও মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে বাঁচায়। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য হলে অবশ্যই খাদ্য তালিকায় শাকসবজি যোগ করা প্রয়োজন। বিনস, ওটস, দানা শস্য ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকে।

সময় অসময়ে খিদে পেলে বুঝতে হবে যে, সঠিক পরিমাণ পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা হচ্ছে না। আমরা অনেকেই অসময়ে চিপস, আইসক্রিম, চা, কফি ইত্যাদি খেয়ে থাকি। এর ফলে লাঞ্চ বা ডিনার করার সময় যথেষ্ট খিদে থাকে না, ফলে পর্যাপ্ত খাদ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া হয় না। একারণে অসময় খিদে পায়। পৌষ্টিকতন্ত্রে পৌষ্টিক গ্রন্থিগুলি থেকে সঠিক উদ্দীপনার অভাবে পুষ্টি রস ক্ষরণে সমস্যা হয়, খাবার হজমে সমস্যা হয় এবং আমরা অপুষ্টিতে ভুগি। তাই সব সময় খিদে পেলে খাদ্য তালিকা সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

কোন বিশেষ প্রকার খাদ্য কখনোই সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া উচিত নয়। অনেকে শাকসবজি তেমন খান না, এটা আমাদের স্বাস্থ্যের ভীষণ ক্ষতি করতে পারে। আমাদের বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। সব ধরনের খাদ্যই আমাদের খাদ্য তালিকায় থাকা প্রয়োজন। অবশ্য তার মানে এই নয় যে আপনি নিরামিষাশী হয়েও মাংস খাওয়া শুরু করবেন, এক্ষেত্রে মাংসে উপস্থিত পুষ্টি উপাদানগুলি সয়াবিন, দুধ ইত্যাদি খাদ্য থেকে পুষিয়ে নিতে হবে।

যদি আপনি সবসময় খিটখিট করতে থাকেন, সব সময় বিরক্ত হন, সবকিছুতেই নেতিবাচক মনোভাব হয়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার খাদ্য তালিকার দিকে তাকান। কার্বোহাইড্রেট-যুক্ত খাদ্য, চিনি, মিষ্টি ইত্যাদি হয়তো খুব কম খাচ্ছেন। সঠিক পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট আমাদের রক্তের সুগারের লেভেল ঠিক রাখে এবং আমাদের মেজাজ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। চিনি, মিষ্টি, মস্তিষ্কে সেরোটোনির নামক রাসায়নিক ক্ষরণে সাহায্য করে। সেরোটোরিন ক্ষরিত হলে আমরা তৃপ্তি পায়, মন ভালো থাকে।

সকল সময় মানসিক চাপে থাকা, বিষণ্ণ উদাস হয়ে থাকা, খাদ্য তালিকার সমস্যা হতে পারে। সুষম খাদ্য গ্রহণ না করলে ভিটামিন, মিনারেল ইত্যাদির অভাবে মানসিক স্থিতি নষ্ট হতে পারে। ফলেট এবং ভিটামিন B 12 মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। মানসিক চাপ অনুভব করলে কী কী খাদ্য গ্রহণ করতে হবে, সেটা নিয়ে একবার ভাবুন।

সকল সময় ক্লান্ত হয়ে পড়া, যেকোনো কাজে ক্লান্ত হয়ে পড়ার লক্ষণ দেখা গেলে খাদ্য তালিকায় নজর দিতে হবে। খাদ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব ঘটলে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি। হাভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, খাদ্যে পুষ্টি উপাদানের অভাব ক্লান্ত হয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। তাই খাদ্যে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট সহ ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের সঠিক পরিমাণ উপস্থিতি একান্ত কাম্য।

গরমের সময়ও যদি শীত লাগে, ঘাম না হয়, তাহলে খাদ্যে পুষ্টি উপাদানের অভাব থেকে এই সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করা হয়। থাইরয়েড গ্রন্থি আমাদের শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা নেয়। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য কম গ্রহণ করলে থাইরয়েড গ্রন্থি প্রভাবিত হয় এবং শরীর ঠাণ্ডা অনুভব করে। একারণে সঠিক পরিমাণ সুষম খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আমাদের মনে রাখার ক্ষমতাও, আমাদের খাদ্যের উপর নির্ভরশীল। কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত বনস্পতি, মারজেরিন ইত্যাদি খাদ্য বেশি গ্রহণ করলে আমাদের স্মৃতিশক্তির ক্ষতি হয়। তেলেভাজা, ফাস্টফুড, বার্গার, হট ডগ ইত্যাদি না খেলে আমাদের মেমোরি ভালো থাকবে। কম তেলে রান্না করা খাবার, আমাদের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা তীক্ষ্ণ রাখে।

আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্ভর করে আপনি কি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করছেন তার উপর। প্রোটিন জাতীয় খাদ্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে বিশেষভাবে ভূমিকা নেয়। আপনার খাদ্যে ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন ইত্যাদির অভাব হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং এর ফলে বারে বারে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। জীবাণুর হাত থেকে বাঁচতে, রোগব্যাধিকে দূর করতে, খাদ্য তালিকায় প্রোটিন-যুক্ত খাদ্য যেমন মাছ, মাংস, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি যুক্ত করুন।

শরীরে শক্তির অভাব বোধ করলে, কোন কাজে মন না লাগলে, উদ্যোগের অভাব হলে খাদ্য তালিকার দিকে তাকান। খাদ্যে আয়রনের অভাবে হলে এটা হতে পারে। আয়রন আমাদের এনার্জি বাড়িয়ে তোলে। আমাদের দেহে অক্সিজেন পরিবহনকারী হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে আয়রন অবশ্য প্রয়োজন। আয়রনের অভাবে অ্যানিমিয়া হতে পারে। অ্যানিমিয়া হলে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা কমে যায় এবং দেহে শক্তির অভাব ঘটে। আয়রন-যুক্ত খাদ্য গ্রহণ করলে এই সমস্যার সমাধান ঘটে।

nhs.uk, Absolute Body Solution, Centre for Disease Control e.t.c.