রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ফ্যাক্টর টেস্ট (R A Factor Test)
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হল এক ধরনের বাত রোগ। এই রোগের কারণে মাংসপেশি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হলে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ফ্যাক্টর টেস্ট করা হয়। এই R A ফ্যাক্টর টেস্ট সম্পর্কে জানতে প্রতিবেদনটি পড়তে থাকুন।
আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্বারা উৎপন্ন এক প্রকার প্রোটিন জাতীয় পদার্থ হল রিউমাটয়েড ফ্যাক্টর। এই রিউমাটয়েড ফ্যাক্টর আমাদের দেহের অস্থিসন্ধির সুস্থ কোষগুলিকে আক্রমণ করে, অর্থাৎ শরীর নিজেই নিজের ক্ষতি সাধন করে। এর ফলে অস্থি সন্ধিতে ব্যথা হয়। এই রোগকে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বলা হয়।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ফ্যাক্টর পরীক্ষা বলতে কী বোঝায়? What is Rheumatoid Arthritis Factor Test?
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ফ্যাক্টর রক্ত পরীক্ষার সাহায্যে, রক্তের মধ্যে কতটা রিমাটয়েড ফ্যাক্টর নামক প্রোটিন আছে সেটা পরিমাপ করা হয়। আমাদের দেহের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ফ্যাক্টর বেশি হতে পারে। বিশেষ করে রিমাটয়েড আর্থ্রাইটিস নামক বাত রোগে, সো-গ্রিন সিন্ড্রোম নামক রোগে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ফ্যাক্টর বেশি হয়। বেশ কিছু সুস্থ মানুষের দেহেও কোন রোগ লক্ষণ ছাড়াই রিউমাটয়েড ফ্যাক্টর বেশি থাকতে দেখা যায়। আবার রিউমাটয়েড ফ্যাক্টর কম থাকা সত্ত্বেও অটোইমিউন ডিজিজ বা বাতের সমস্যা দেখা যেতে পারে।
কখন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ফ্যাক্টর টেস্ট করা হয়? When Rheumatoid Arthritis Factor Test is Ordered?
রিমাটয়েড আর্থ্রাইটিস নামক রোগের লক্ষণ খুব ধীরে ধীরে প্রকাশিত হয়। প্রথমে এই লক্ষণগুলি সাধারণ জীবাণুর আক্রমণ বলে মনে হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে বারে বারে একই সমস্যা সামনে আসে এবং আমরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি। যে সকল লক্ষণ গুলি দেখা যায় সেগুলি হল; দুর্বলতা, শুকনো চোখ, মুখের ভিতর শুকিয়ে যাওয়া, হজমের সমস্যা, খুব হালকা জ্বর ইত্যাদি। এছাড়া গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া, চোখ জ্বালা করা, নিঃশ্বাস নেওয়ার সমস্যা, বুকে ব্যথা ইত্যাদি রোগ লক্ষণ দেখা যেতে পারে। সবথেকে পরিচিত লক্ষণ হল অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, অস্থিসন্ধি ফুলে যাওয়া, জয়েন্ট শক্ত বা নরম হয়ে যাওয়া, জয়েন্টের আকৃতির পরিবর্তন ঘটা ইত্যাদি। এই সকল লক্ষণগুলি দেখা গেলে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ফ্যাক্টর টেস্ট করতে দেয়া হয়।
আপনার চিকিৎসক যদি মনে করেন যে, আপনার কোন অটোইমিউন ডিজিজ হয়েছে বা আপনার সো-গ্রিন সিনড্রোম নামক রোগ হয়েছে, সেক্ষেত্রে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ফ্যাক্টর টেস্ট করতে দিতে পারেন।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ফ্যাক্টর পরীক্ষার আগের প্রস্তুতি: Preparation Before Testing Rheumatoid Arthritis Factor:
কোন বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়ে না। পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা দেওয়ার আগে অনাহারে থাকার প্রয়োজন নেই।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস পরীক্ষার জন্য কিভাবে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়? How is the Blood Collected for R A Testing?
সাধারণত হাতের শিরা থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রথমে বাহুতে রাবার ব্যান্ডের সাহায্যে একটি বাঁধন দেওয়া হয়, তারপর সিরিঞ্জের সাহায্যে রক্ত সংগ্রহ করা হয়।
রক্তের নমুনা সংগ্রহ করার সময় তেমন কোন বিপদের সম্ভাবনা নেই। সুচ-বিদ্ধ করা স্থানে সামান্য ব্যথা হতে পারে, রক্ত জমে হেমাটোমা হতে পারে।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ফ্যাক্টরের স্বাভাবিক মাত্রা: Normal Levels of R A Factor:
R A ফ্যাক্টরের মাত্রা প্রকাশ করা হয় ইউনিট বা একক হিসাবে অথবা টাইটার হিসাবে। ইউনিট হিসেবে প্রকাশ করলে R A ফ্যাক্টরের নরমাল লেভেল হল;
60 u/mL এর কম।
আর টাইটার হিসেবে প্রকাশ করলে নরমাল লেভেল হল;
1:80 টাইটার পর্যন্ত।
এর বেশি হলে R A ফ্যাক্টর পজিটিভ বলা হয়।
পরীক্ষার ফলাফলের ব্যাখ্যা: What Does The Test Result Mean?
রক্তে স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি পরিমাণ R A ফ্যাক্টর উপস্থিত থাকলে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হয়েছে বলে মনে করা হয়। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগীদের R A ফ্যাক্টর পজিটিভ হয়। এছাড়া যেসকল ব্যক্তিদের রক্তে R A ফ্যাক্টরের পরিমাণ বেশি থাকে, তাদের মধ্যেও প্রায় 50% ব্যক্তিদের সো- গ্রিন সিনড্রোম দেখা যায় এবং কিছু ব্যক্তিদের রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও সো- গ্রিন সিনড্রোম এই দুটি রোগ একসাথে দেখা যায়।
যে সকল ব্যক্তিদের R A ফ্যাক্টর পজিটিভ কিন্তু রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা সো-গ্রিন সিনড্রোমের কোন লক্ষণ নেই, তাদের ক্ষেত্রে অন্য কয়েকটি রোগ খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন এন্ডোকারডাইটিস, লুপাস, টিউবারকিউলোসিস, সিফিলিস, সারকয়ডোসিস, ক্যান্সার, ভাইরাল ইনফেকশন ইত্যাদি। এছাড়া লিভার, কিডনি, লাংস ইত্যাদি অঙ্গ অসুস্থ হলেও R A ফ্যাক্টর পজিটিভ হতে পারে।
R A ফ্যাক্টর টেস্ট নেগেটিভ হলে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা সো- গ্রিন সিনড্রোম হয়নি বলে মনে করা হয়, অথবা রোগের অবস্থা একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় থাকার কারণে নেগেটিভ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এক্ষেত্রে পরবর্তীকালে আবার টেস্ট করার প্রয়োজন পড়ে।
